রুশ পর্যটকরা চলতি বছরে বিপুল অর্থ ব্যয় করছেন বিদেশ ভ্রমণে। দেশটির কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্য অনুসারে শুধু জুলাইয়ে তারা খরচ করেছেন ৫৪৬ কোটি ডলার। ২০১৮ সালে মাসভিত্তিক বৈদেশিক বাণিজ্যের পরিসংখ্যান প্রকাশ করছে রাশিয়ার আর্থিক খাতের নিয়ন্ত্রক সংস্থাটি। তখন থেকে মাস হিসেবে এটি সর্বোচ্চ পর্যটন ব্যয়। মে-সেপ্টেম্বর পাঁচ মাসে রুশদের কাছে সবচেয়ে জনপ্রিয় গন্তব্য ছিল তুরস্ক। ২৮ লাখ ৩০ হাজার রুশ ঘুরতে গেছেন দেশটিতে, যেখান থেকে এসেছে রুশ ট্রাভেল কোম্পানিগুলোর মোট আয়ের ৫৮ শতাংশ। দ্বিতীয় অবস্থানে থাকা মিসরের হিস্যা ছিল ১৫ শতাংশ। এসব তথ্য জানিয়েছে খাতসংশ্লিষ্ট সংগঠন অ্যাসোসিয়েশন অব ট্যুর অপারেটর অব রাশিয়া (এটিওআর)। অন্যদিকে রাশিয়ার অভ্যন্তরীণ পর্যটন আয়ে এবারের গ্রীষ্ম তুলনামূলক ধীর ছিল। রাশিয়ান ইউনিয়ন অব দ্য ট্যুরিজম ইন্ডাস্ট্রি (আরএসটি) জানিয়েছে, জুন-আগস্ট পর্যন্ত স্থানীয় পর্যটনে বুকিং বেড়েছে মাত্র ১ দশমিক ১ শতাংশ, যেখানে গত বছরের একই সময়ে প্রবৃদ্ধি ছিল ১৫ দশমিক ৩ শতাংশ। স্থানীয় চাহিদার তুলনায় বিদেশ ভ্রমণ বৃদ্ধি সম্পর্কে আরএসটির প্রধান ইলিয়া উমানস্কি বলেন, ‘কয়েক বছরের দ্রুত প্রবৃদ্ধির পর স্থানীয় পর্যটনের চাহিদায় সংশোধন এটি। অন্যদিকে রুবলের বিনিময় হার অন্যান্য মুদ্রার বিপরীতে শক্তিশালী হওয়ায় বিদেশী ছুটির প্যাকেজ স্থানীয় ভ্রমণের চেয়ে বেশি আকর্ষণীয় হয়েছে। এছাড়া উচ্চ মূল্যস্ফীতি এবং মধ্য ও দক্ষিণ রাশিয়ায় অস্বাভাবিক শীতল গ্রীষ্ম ছিল স্থানীয় পর্যায়ে ভ্রমণ কমার প্রধান কারণ।’
এদিকে রাশিয়া থেকে চীনের দক্ষিণাঞ্চলীয় হাইনান রিসোর্টে ভ্রমণে বড় ধরনের চাহিদা লক্ষ করা যাচ্ছে বলে জানিয়েছে এটিওআর। সম্প্রতি রুশ ভ্রমণকারীদের জন্য ভিসামুক্ত ভ্রমণ চালু করার ঘোষণা দিয়েছে বেইজিং। এর পর থেকে এ প্রবৃদ্ধি লক্ষ করা যাচ্ছে। ১৫ সেপ্টেম্বর পরীক্ষামূলকভাবে এক বছরের জন্য চীনের এ কর্মসূচি শুরু হয়েছে। রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন এ পদক্ষেপকে ‘অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ’ বলে উল্লেখ করেছেন এবং প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন, রাশিয়াও একইভাবে চীনা পর্যটকদের জন্য ভিসামুক্ত ভ্রমণ পরিষেবা দেবে। —খবর আরটি